বাংলাদেশে সরকার বদলায়। শাসক বদলায়। ভাষা বদলায়। কিন্তু একটি জিনিস অদ্ভুতভাবে অপরিবর্তিত থাকে—ক্ষমতার খুব কাছেই থাকে দেশের প্রধান দুই সংবাদমাধ্যম: Prothom Alo এবং The Daily Star।
প্রশ্ন উঠছে—কেনো? কীভাবে? এবং কীভাবে মাত্র দুটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সময়ের পর সময় কার্যত একটি “অদৃশ্য সরকার”-এ পরিণত হয়?
ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার রাজনীতি
এই দুটি সংবাদমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট সরকারের মুখপত্র নয়। বরং তারা এমন এক অবস্থানে থাকে, যেখানে যেই সরকারই আসুক—তাদের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে সহাবস্থান বেছে নেয়। এর পেছনে মূল কারণ আদর্শ নয়, কাঠামোগত বাস্তবতা।
বড় সংবাদমাধ্যম চালানো মানে বিপুল অর্থ, বিজ্ঞাপন, কাগজ, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং লাইসেন্স। রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা মানেই বিজ্ঞাপন বন্ধ, মামলার ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রক চাপ। ফলে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থাকাটাই হয়ে ওঠে টিকে থাকার কৌশল।
এজেন্ডা সেটিং: আসল শক্তির উৎস
এই মিডিয়াগুলোর প্রকৃত শক্তি আসে কোথা থেকে? সেনাবাহিনী থেকে নয়, পুলিশ থেকে নয়—বরং এজেন্ডা সেটিং থেকে। কোন খবর প্রথম পাতায় যাবে, কোনটা ভেতরের পাতায় হারাবে, কোন বিষয় বারবার আলোচনায় আসবে, আর কোনটা নীরবে চাপা পড়বে—এই সিদ্ধান্তই জনমত তৈরি করে। মানুষ কী নিয়ে ভাববে, কী নিয়ে ক্ষুব্ধ হবে, কী নিয়ে নীরব থাকবে—তার একটি বড় অংশ নির্ধারিত হয় এখানেই। এখানেই তারা “অদৃশ্য সরকার” হয়ে ওঠে।
নিরপেক্ষতার মিথ
এই দুটি পত্রিকা নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করে। কিন্তু বাস্তবে এটি একধরনের নিয়ন্ত্রিত নিরপেক্ষতা। তারা সরাসরি ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না, আবার পুরোপুরি প্রশংসাও করে না। তারা সমালোচনা করে, কিন্তু এমনভাবে—যাতে কাঠামো নড়ে না। এটি বিপ্লবী সাংবাদিকতা নয়। এটি কর্পোরেট সাংবাদিকতা।
রাষ্ট্র, কর্পোরেট ও মিডিয়ার ত্রিভুজ
সরকার চায় বৈধতা। কর্পোরেট চায় স্থিতিশীলতা। মিডিয়া চায় টিকে থাকা। এই তিনের মিলনস্থলেই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের শক্ত অবস্থান। ফলে সরকার বদলায়, কিন্তু মিডিয়ার অবস্থান বদলায় না।
সমস্যা কোথায়?
সমস্যা এই নয় যে তারা টিকে থাকতে চায়। সমস্যা হলো—যখন জনগণ ভাবতে শুরু করে, “যদি এই দুই পত্রিকা না বলছে, তবে হয়তো ঘটনাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।” এটাই বিপজ্জনক। কারণ তখন একটি বা দুটি সংবাদমাধ্যম অঘোষিতভাবে ঠিক করে দেয়—কোন সত্য সমাজ জানবে, আর কোনটা জানবে না।
উপসংহার
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সরকার নয়। আইনও নয়। কিন্তু তারা ক্ষমতার ভাষা অনুবাদ করে জনগণের কাছে, আর জনগণের প্রতিক্রিয়া অনুবাদ করে ক্ষমতার কাছে। এই মধ্যবর্তী অবস্থানই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিই তাদের অদৃশ্য সরকার বানায়। এটা ষড়যন্ত্র নয়। এটা আধুনিক রাষ্ট্র আর কর্পোরেট মিডিয়ার বাস্তবতা।
ধন্যবাদ।
বিশ্লেষণে: Omar Archive

1 Comments
;-(
ReplyDeleteThanks you
Emoji