Ad Code

ICE এখন আপনার পাড়ার প্রতিটি মোবাইল ফোন নজরদারি করতে পারবে

এই ঘটনাকে শুধু “প্রযুক্তিগত উন্নয়ন” বলা মিথ্যা বলা। এটা আসলে নৈতিকতার সীমারেখা লঙ্ঘন করে এগিয়ে যাওয়া এক ভয়াবহ অগ্রসরতা। যুক্তরাষ্ট্রের Immigration and Customs Enforcement (ICE) এমন এক নজরদারি ব্যবস্থার দিকে হাঁটছে, যেখানে অপরাধ প্রমাণ নয়, বরং উপস্থিতি নিজেই সন্দেহ। আপনি কোথাও আছেন, সেটাই যথেষ্ট। এই প্রযুক্তির মূল শক্তি হলো বাণিজ্যিকভাবে কেনা লোকেশন ডেটা। কোনো আদালতের অনুমতি নয়, কোনো ওয়ারেন্ট নয়। শুধু টাকা, আর মানুষের চলাচলের ইতিহাস হাতের মুঠোয়। নৈতিকতার দিক থেকে এটা বিপজ্জনক কারণ এখানে রাষ্ট্র আর নাগরিকের মধ্যকার সম্মতির চুক্তিটাই ভেঙে ফেলা হচ্ছে। একটা সময় ছিল, নজরদারি মানে সন্দেহভাজনকে টার্গেট করা। এখন তা বদলে গেছে। আজকের মডেলটা হলো এলাকা-ভিত্তিক সন্দেহ। একটি পাড়া, একটি ব্লক, একটি ভবন—সবাই সম্ভাব্য লক্ষ্য। নির্দোষ হওয়াটা আর ঢাল নয়। সবচেয়ে অস্বস্তিকর জায়গাটা এখানে: এই ডেটা সরকার সরাসরি ফোন কোম্পানি থেকে নেয় না। নেয় ডেটা ব্রোকারদের কাছ থেকে। ফলে আইনের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ে নৈতিকতার ঘর ভেঙে। কাগজে কলমে বৈধ, বাস্তবে ভয়ংকর। এটা শুধু অভিবাসন ইস্যু নয়। এটা একটি প্রিসিডেন্ট। আজ ICE, কাল অন্য সংস্থা। আজ লোকেশন, কাল যোগাযোগের ধরন, পরশু চিন্তার প্যাটার্ন। প্রযুক্তি থামে না, আর ক্ষমতা নিজে নিজে লাগামও টানে না। নৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো: যদি রাষ্ট্র আপনাকে না জিজ্ঞেস করেই আপনার জীবনের মানচিত্র কিনে নিতে পারে, তাহলে নাগরিক আর নজরদারির বস্তু—এই দুইয়ের পার্থক্য কোথায়? এই অগ্রসরতা সভ্যতার দিকে নয়। এটা নিয়ন্ত্রণের দিকে। শেষ কথা
ডিজিটাল যুগে ফোন আর যন্ত্র না। ফোন এখন আপনার ছায়া। আর সেই ছায়ার ওপর রাষ্ট্রের পা পড়তে শুরু করেছে, কোনো অনুমতি ছাড়াই। নৈতিকতার পাতায় এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না। এটা স্পষ্টতই এক ভয়াবহ অগ্রসরতা।

Post a Comment

0 Comments

Close Menu